Animal General Surgery
Animal General Surgery. Mobile Phone 01797522136, 01987073965. Animal general surgery encompasses essential, often routine procedures performed by veterinarians to treat various health conditions in pets, including soft tissue surgeries (neuters, tumor removals), gastrointestinal repairs, and wound management. These procedures aim to improve the health, comfort, and quality of life for animals, with many clinics offering specialized services.
পশুর সাধারণ অস্ত্রোপচারে পশুচিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত অবস্থার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয়, প্রায়শই নিয়মিত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার মধ্যে রয়েছে নরম টিস্যু সার্জারি (নিউটার, টিউমার অপসারণ), গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল মেরামত এবং ক্ষত ব্যবস্থাপনা। এই পদ্ধতিগুলির লক্ষ্য পশুদের স্বাস্থ্য, আরাম এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা ।
Animal Surgery is studied in some courses Veterinary Courses of HRTD Medical Institute. These courses are Para Vet, DMA Vet, DMS Vet, and DMDS Vet. All these courses are available in the HRTD Medical Institute. HRTD Medical Institute is an Organization of HRTD Limited (Registered by the Government of the People’s Republic of Bangladesh.
Common Types of Animal General Surgery
- Soft Tissue Surgery: This category includes non-orthopedic procedures such as spaying/neutering, tumor or lump removal, skin reconstruction, and hernia repairs.
- Gastrointestinal (GI) Procedures: Removal of foreign objects, intestinal resections, and treatment of stomach torsion.
- Respiratory Surgery: Correction of Brachycephalic Obstructive Airway Syndrome (BOAS) in short-nosed breeds, such as correcting elongated soft palates or stenotic nares.
- Urogenital Surgery: Bladder stone removal (cystotomy) and other urinary tract repairs.
- Wound & Trauma Management: Treatment of lacerations, bite wounds, and complex skin injuries.
Pre- and Post-Operative Care
- Preparation: Pets undergo a thorough health assessment, which may include blood tests to ensure they are healthy enough for anesthesia.
- Anesthesia & Monitoring: Procedures are performed under general or local anesthesia, with continuous monitoring of vital signs (heart rate, breathing, oxygen levels) by a veterinary team.
- Recovery: Post-operative care includes pain management, wound care, and follow-up checks to ensure proper healing.
বাংলাদেশে পশু চিকিৎসায় কোন সার্জারি গুলো বেশি হয়ে থাকে?
বাংলাদেশে পশু চিকিৎসায়, বিশেষ করে পোষা প্রাণী (কুকুর-বিড়াল) এবং গবাদি পশুর ক্ষেত্রে যে সার্জারিগুলো সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে, তার মধ্যে প্রধান হলো নির্বীজকরণ বা স্পে-নিউটার (Spay/Neuter), ক্ষত বা জখম মেরামত, টিউমার অপসারণ, এবং আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া (Umbilical hernia) অপারেশন। এছাড়া গাভী ও বাছুরের ক্ষেত্রে প্রসবকালীন জটিলতা এবং ডিস্টোকিয়া (Dystocia) সার্জারিও বেশ সাধারণ [২, ৩, ৯]।
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত পশু চিকিৎসাসমূহ:
- স্পে এবং নিউটার (Spay & Neuter): পোষা কুকুর-বিড়ালের প্রজনন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি সবচেয়ে সাধারণ সার্জারি [২, ৫]।
- আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া (Umbilical Hernia): বাছুর এবং ছোট প্রাণীদের ক্ষেত্রে নাভির হার্নিয়া বা টিউমারের অপারেশন খুব বেশি হয় [৩]।
- ক্ষত মেরামত (Wound Repair): দুর্ঘটনার শিকার বা কামড়াকামড়িতে আহত প্রাণীদের ক্ষত পরিষ্কার ও সেলাই (Suturing) [৯]।
- টিউমার/ল্যাম্প অপসারণ (Tumor Removal): কুকুর-বিড়ালের চামড়ার নিচে বা ভেতরে ছোট টিউমার অপসারণ [৯]।
- ডিস্টোকিয়া সার্জারি (Dystocia/C-Section): গবাদি পশু বা পোষা প্রাণীর প্রসবের জটিলতা দূর করতে অস্ত্রোপচার [৩]।
- ডেন্টাল সার্জারি: দাঁতের পাথর অপসারণ বা ইনফেকশনজনিত কারণে সার্জারি [১, ৯]।
- অর্থোপেডিক সার্জারি: হাড় ভাঙা বা জয়েন্টের সমস্যা মেরামতের কাজ [১০]।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে এই সার্জারিগুলো নিয়মিত করা হচ্ছে, যেখানে বিড়ালের চিকিৎসার হারই বেশি লক্ষ্য করা যায় [৫]।
খাসিকরণ (Castration)
খাসিকরণ (Castration) হলো পুরুষ পশু, বিশেষ করে ছাগল, ভেড়া বা গরুর অণ্ডকোষ নষ্ট বা অপসারণ করে তাদের প্রজনন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া। এটি পশুর মাংসের গুণমান বৃদ্ধি, দ্রুত বৃদ্ধি, স্বভাব শান্ত করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রজনন রোধ করতে করা হয় [১, ২]। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কাস্ট্রেশন পাইলার বা অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহার করা হয় [২]।
খাসিকরণের প্রধান সুবিধাসমূহ:
- দ্রুত বৃদ্ধি ও বেশি মাংস: খাসি পশু সাধারণ পশুর তুলনায় দ্রুত বাড়ে এবং তাদের মাংস তুলনামূলক বেশি সুস্বাদু ও নরম হয় [১, ২]।
- শান্ত স্বভাব: খাসিকরণের ফলে পশু শান্ত ও কম বিশৃঙ্খল হয় [১]।
- প্রজনন নিয়ন্ত্রণ: এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রয়োজনীয় প্রজনন রোধ করতে সাহায্য করে, যা খামারের ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় [১, ২]।
- মাংসের গন্ধ: পুরুষ ছাগলের তীব্র গন্ধ দূর হয় [১]।
খাসি করার পদ্ধতি
ছাগলের বাচ্চা ১৫ দিন থেকে ১ মাস বয়সের মধ্যে খাসি করা সবচেয়ে উত্তম, যা অণ্ডকোষ অপসারণের মাধ্যমে মাংস নরম ও সুস্বাদু করে এবং ছাগলকে শান্ত করে [১, ৩]। সাধারণত অণ্ডকোষের উপর দিয়ে রাবার ব্যান্ড বা নিউম্যাটিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা কয়েক সপ্তাহ পর অণ্ডকোষ শুকিয়ে খসে পড়ে [২, ৬]।
খাসি করার পদ্ধতি:
- বয়স: ১৫ দিন থেকে ১ মাসের বাচ্চা খাসি করার আদর্শ সময় [৩]।
- পদ্ধতি ১ (রাবার ব্যান্ড/রবার রিং): বিশেষ রিং অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করে অণ্ডকোষের ওপরের অংশে শক্ত রাবার ব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হয়। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অণ্ডকোষ ২-৩ সপ্তাহে শুকিয়ে পড়ে যায় [২, ৫]।
- পদ্ধতি ২ (বার্ডিযো কাস্ট্রেটর): একটি যান্ত্রিক সরঞ্জামের (Burdizzo) সাহায্যে অণ্ডকোষের উপরের নালী বা কর্ডটি চামড়া না কেটে চেপে দেওয়া হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে অণ্ডকোষ ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয় [৬]।
- পদ্ধতি ৩ (সার্জিক্যাল পদ্ধতি): পেশাদার বা ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা অণ্ডকোষের চামড়া কেটে অপারেশন করে অণ্ডকোষ অপসারণ করা।
সতর্কতা:
- খাসি করার পর স্থানটি পরিষ্কার রাখতে হবে এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে [৪, ৭]।
- ধনুষ্টংকার (Tetanus) প্রতিরোধে টিকা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন [৩]।
শান্ত স্বভাবের এবং দ্রুত মাংস বৃদ্ধির জন্য সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি করা হয়।
পশু চিকিৎসায় স্পেয়িং (Spaying) বা ওভারিও হিস্টেরেক্টমি সার্জারি
পশু চিকিৎসায় স্পেয়িং (Spaying) বা ওভারিওহিস্টেরেক্টমি একটি সাধারণ সার্জারি, যার মাধ্যমে স্ত্রী কুকুর বা বিড়ালের ডিম্বাশয় এবং জরায়ু অপসারণ করে প্রজনন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয় [২, ৫, ৯]। এটি সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া বা অজ্ঞান করে করা হয়, যা অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ রোধ করে এবং জরায়ুর সংক্রমণ (Pyometra) ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আয়ু বাড়ায় [৩, ৫]।
স্পেয়িং বা ওভারিওহিস্টেরেক্টমি সম্পর্কে বিস্তারিত:
- সার্জারি পদ্ধতি: এটি একটি পেটের বড় সার্জারি (Major Abdominal Surgery)। সাধারণত নাভির নিচে ছোট ছিদ্র করে ডিম্বাশয় (Ovaries) এবং জরায়ু (Uterus) সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয় [২, ১০]।
- সময়কাল: কুকুরের ক্ষেত্রে এটি ৩০ থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিতে পারে, যেখানে বিড়ালের ক্ষেত্রে সাধারণত ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে [১০, ১৩]।
- বয়স: সাধারণত ৬-১২ মাস বয়সের মধ্যে বা প্রথম হিট (Heat Cycle) আসার আগে এই সার্জারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যদিও এটি যেকোনো বয়সে করা যেতে পারে [৩, ৫]।
- সুবিধা:
- জরায়ুর মারাত্মক সংক্রমণ বা ‘পাইমেট্রা’ (Pyometra) প্রতিরোধ করে [৩]।
- প্রথম হিট হওয়ার আগে করালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যায় [৩]।
- অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ পুরোপুরি বন্ধ করে [৪]।
- হিট বা গরম হওয়া সংক্রান্ত আচরণগত সমস্যা দূর করে [৩]।
- ঝুঁকি ও সতর্কতা: এটি একটি নিরাপদ পদ্ধতি হলেও, সংক্রমণের ঝুঁকি, ফোলাভাব বা রক্তপাতের মতো জটিলতা খুব কম ক্ষেত্রে হতে পারে [১৫]। পোস্ট-অপারেটিভ বা সার্জারির পরবর্তী সময়ে ব্যথানাশক ঔষধ ও যত্নের প্রয়োজন হয় [৮]।
- বিকল্প: কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিম্বাশয় অপসারণ (Ovariectomy) বা ওভারি-স্পেয়ারিং স্পে (যেখানে জরায়ু সরিয়ে নেওয়া হয় কিন্তু একটি ডিম্বাশয় রাখা হয়) পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয় [১, ৬]।
- সার্জারির আগে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি।
সিং কাটা (Dehorning/Disbudding)
সিং কাটা (Dehorning/Disbudding) হলো গবাদি পশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া) নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য শিং অপসারণ বা বৃদ্ধিরোধ করার প্রক্রিয়া। ২-৮ সপ্তাহ বয়সের বাছুরের শিং কুঁড়ি পোড়ানো (Disbudding) সবচেয়ে নিরাপদ ও ব্যথাহীন, যা গরম লোহা বা কস্টিক পেস্ট দ্বারা করা হয়। বড় গরুর ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিং কাটা হয়।
সিং কাটা বা ডিসবাডিং-এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা:
- নিরাপত্তা: পশুপাল, অন্যান্য গবাদি পশু এবং খামারের অবকাঠামো (বেড়া, গেট) শিং-এর আঘাত থেকে রক্ষা পায়।
- ব্যবস্থাপনা: শিংবিহীন পশুকে সামলানো, পরিবহন এবং চিকিৎসা দেওয়া সহজ।
- ঝুঁকি হ্রাস: শিং-এর মাধ্যমে অন্য পশুকে আঘাত করার প্রবণতা কমে, বিশেষ করে গাদাগাদি করে রাখার সময়।
পদ্ধতিসমূহ:
- ডিসবাডিং (Disbudding) (ছোট বাছুর): ২-৮ সপ্তাহ বয়সে যখন শিং কুঁড়িগুলো মাথার খুলির সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয় না, তখন এটি করা হয়। গরম লোহা (Hot iron) সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কারণ এতে রক্তপাত কম হয় এবং নিরাময় দ্রুত হয়। এছাড়া কেমিক্যাল পেস্ট বা কস্টিক সোডাও ব্যবহার করা হয়।
- ডিহর্নিং (Dehorning) (বড় পশু): পূর্ণাঙ্গ শিং হয়ে গেলে করাত, বা বার্নস ডিহর্নার (Barnes dehorner) দিয়ে শিং কাটা হয়। এটি তুলনামূলক জটিল এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
- ব্যান্ডিং (Banding): ইলাস্টিক ব্যান্ড ব্যবহার করে শিং-এর গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে শিং শুকিয়ে পড়ে যায়।
সতর্কতা:
- ব্যথানাশক বা অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহার করা উচিত যাতে পশুর কষ্ট কম হয়।
- বড় পশুদের ক্ষেত্রে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
- ডিহর্নিং বা ডিসবাডিং-এর পর ক্ষতস্থানে যাতে মাছি না বসে বা সংক্রমণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পশু চিকিৎসায় ক্ষত বা জখম মেরামতের
পশু চিকিৎসায় ক্ষত বা জখম মেরামতের জন্য দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করা, সাবান-পানি বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ব্যবহারের মাধ্যমে সংক্রমণ রোধ করা প্রয়োজন [১, ২, ৯]। ক্ষত গভীর হলে সেলাই (Sutures), স্ট্যাপল বা গ্লু প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে ব্যান্ডেজ করতে হবে [২, ১১]। কামড়ের ক্ষত হলে অবশ্যই জলাতঙ্কের টিকা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে [১২]।
পশু চিকিৎসায় ক্ষত মেরামতের মূল ধাপসমূহ:
- প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid): ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার করার আগে সাবান এবং চলমান পানি (Running water) দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে [১]। রক্তপাত বন্ধ করতে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিতে হবে [১]।
- পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ (Cleaning & Lavage): ক্ষতের আশেপাশের লোম কেটে ফেলা এবং জীবাণুনাশক বা স্যালাইন দিয়ে ক্ষতটি ধুয়ে (Irrigation/Lavage) ময়লা দূর করা হয় [২, ৬]।
- ক্ষত পরিদর্শন (Debridement): পশু চিকিৎসক মৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু অপসারণ করেন যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় [২, ৩]।
- ক্ষত বন্ধ করা (Closure): ক্ষত গভীর হলে সেলাই (Sutures), স্ট্যাপল বা সার্জিক্যাল আঠা ব্যবহার করা হয় [২, ১১]।
- খোলা ক্ষত (Open Wounds): খুব বেশি দূষিত বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে ক্ষতটি খোলা রাখা হয় এবং বারবার ব্যান্ডেজ পরিবর্তন করা হয় [২]।
- ওষুধ ও যত্ন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক পাউডার বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে [১০]। এছাড়াও, ই-কলার (E-collar) ব্যবহার করে পশুকে ক্ষত চেটে ফেলা থেকে বিরত রাখা জরুরি [১৪]।
সাবধানতা: ক্ষতস্থানে কখনো হলুদ বা মরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করবেন না [১]। গুরুতর জখম হলে অবশ্যই দ্রুত পশু চিকিৎসকের (Veterinarian) পরামর্শ নিন।
পশু চিকিৎসায় ডিব্রিডমেন্ট (Debridement)
পশু চিকিৎসায় ডিব্রিডমেন্ট (Debridement) হলো ক্ষতস্থান থেকে মৃত, সংক্রামিত বা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু (necrosed tissue), ময়লা এবং বিদেশী বস্তু অপসারণের একটি জরুরি প্রক্রিয়া। এটি ক্ষতের দ্রুত নিরাময় নিশ্চিত করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এটি সার্জিক্যাল, মেকানিক্যাল, এনজাইমেটিক বা বায়োলজিক্যাল (ম্যাগট থেরাপি) উপায়ে করা যায়।
পশু চিকিৎসায় ডিব্রিডমেন্টের মূল দিকসমূহ:
- লক্ষ্য: সুস্থ টিস্যু অক্ষুণ্ণ রেখে শুধুমাত্র মৃত টিস্যু সরিয়ে ফেলা, যাতে ক্ষতটি দ্রুত শুকায়।
- কেন প্রয়োজন: মৃত টিস্যু ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ক্ষত নিরাময় বাধাগ্রস্ত করে।
- পদ্ধতিসমূহ:
- সার্জিক্যাল (Surgical): স্কালপেল বা কাঁচি ব্যবহার করে সরাসরি মৃত টিস্যু কেটে ফেলা।
- মেকানিক্যাল (Mechanical): ভেজা-থেকে-শুকনো (wet-to-dry) ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে, যা শুকানোর পর ময়লা টেনে বের করে।
- এনজাইমেটিক (Enzymatic): বিশেষ মলম ব্যবহার করে মৃত টিস্যু গলিয়ে ফেলা।
- বায়োলজিক্যাল (Biological/Maggot Therapy): জীবাণুমুক্ত মাছি বা ম্যাগট ব্যবহার করে সংক্রমণ ও মৃত টিস্যু পরিষ্কার করা।
- প্রয়োগ: গভীর ক্ষত, কামড়ের ক্ষত, পুড়ে যাওয়া ত্বক বা পচন ধরা স্থানে এটি অত্যাবশ্যক।
ডিব্রিডমেন্টের মাধ্যমে সংক্রমণের কারণ দূর করে প্রাণী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
পশু চিকিৎসায় ক্ষত বন্ধ বা সেলাই
পশু চিকিৎসায় ক্ষত দ্রুত নিরাময়ের জন্য সেলাই বা ক্লজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা টিস্যুর ধরণ, সংক্রমণের মাত্রা এবং ক্ষত স্থানের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। সাধারণত পরিষ্কার ও নতুন ক্ষত (৬ ঘণ্টার কম) সরাসরি সেলাই করা হয় [১, ২]। নোংরা বা গভীর ক্ষতের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কয়েকদিন খোলা রেখে পরে সেলাই (delayed closure) করা হয় [৫]।
পশু চিকিৎসায় ক্ষত সেলাইয়ের মূল দিকগুলো:
- সেলাইয়ের ধরণ (Closure Type):
- প্রাথমিক সেলাই (Primary Closure): তাজা ও কম দূষিত ক্ষতের জন্য সরাসরি সেলাই করা হয় [১]।
- বিলম্বিত প্রাথমিক সেলাই (Delayed Primary Closure): ৩-৫ দিন পর, ক্ষত পরিষ্কার হলে সেলাই করা হয় [২]।
- মাধ্যমিক সেলাই (Secondary Closure): ৫ দিন বা তার বেশি সময় পর, গ্রানুলেশন টিস্যু তৈরি হলে এই সেলাই করা হয় [২]।
- সেলাই সামগ্রী (Sutures): শোষনযোগ্য (absorbable) বা অ-শোষনযোগ্য (non-absorbable), এবং প্রাকৃতিক বা সিন্থেটিক সুতো ব্যবহারের ক্ষেত্রে টিস্যুর ধরণ ও ক্ষত স্থান বিবেচনা করা হয় [৪]।
- অন্যান্য পদ্ধতি: সেলাইয়ের পাশাপাশি স্টেপলস (staples) বা টিস্যু আঠা (cyanoacrylate) ব্যবহার করা যেতে পারে [১]।
- বিশেষ সতর্কতা: বিড়ালের ক্ষেত্রে সেলাইয়ের শক্তি কুকুর থেকে কম হয় এবং অনেক সময় গভীর ক্ষত প্রাকৃতিক নিরাময়ের জন্য খোলা রাখা হয় [৩, ৮]।
প্রাথমিক চিকিৎসার পদক্ষেপ:
- রক্তপাত বন্ধ করা: ক্ষতের স্থানটি পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হবে [৭]।
- পরিষ্কার করা: ক্ষতটি পানি বা অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে [৭]।
- ডাক্তারের পরামর্শ: সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত পশু চিকিৎসকের (Vet) পরামর্শ নিয়ে সেলাই বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে [৮, ৯]।
পশু চিকিৎসায় স্কিন গ্রাফটিং (Skin Grafting) ও ফ্ল্যাপ (Flap)
পশু চিকিৎসায় স্কিন গ্রাফটিং (Skin Grafting) ও ফ্ল্যাপ (Flap) হলো জটিল বা বড় ক্ষত নিরাময়ের উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। গ্রাফটিং-এ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন সুস্থ ত্বক ক্ষতস্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা সাধারণত পায়ের নিচের অংশের জন্য প্রযোজ্য [২, ৮]। ফ্ল্যাপ পদ্ধতিতে ত্বকের একটি অংশ নিজস্ব রক্তসঞ্চালন বজায় রেখে স্থানান্তরিত করা হয়, যা ত্বকের টান কমিয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে কাজ করে [৪, ৭]।
পশু চিকিৎসায় স্কিন গ্রাফটিং ও ফ্ল্যাপের বিস্তারিত:
- স্কিন গ্রাফটিং (Skin Grafting): এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শরীরের এক অংশ (Donor site) থেকে চামড়া সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে অন্য ক্ষতস্থানে (Recipient site) প্রতিস্থাপন করা হয় [২, ৩]। এটি মূলত বড় ক্ষত বা যেখানে চামড়া কমে গেছে, সেখানে ব্যবহৃত হয় [৫]।
- প্রকারভেদ: শিট গ্রাফ্ট (Sheet graft) এবং পাঞ্চ গ্রাফ্ট (Punch graft) – যা ঘোড়া বা ছোট প্রাণীর ক্ষত ঢেকে দিতে ব্যবহৃত হয় [৭, ১০]।
- সফলতা: সফল হওয়ার জন্য গ্রাফ্টটি নতুন জায়গায় রক্ত সরবরাহ (Vascularization) দ্রুত পায় কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ [২]।
- স্কিন ফ্ল্যাপ (Skin Flap): এটি একটি সুস্থ ত্বক ও টিস্যু যা আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে বা তার মূল রক্ত সরবরাহ অক্ষুণ্ন রেখে কাছের ক্ষতস্থানে স্থানান্তর করা হয় [১৪]। এটি প্রায়শই এমন জায়গায় ব্যবহৃত হয় যেখানে রক্ত সরবরাহ কম [৭]।
- প্রকারভেদ: সাবডার্মাল প্লেক্সাস ফ্ল্যাপ (Subdermal plexus flap), এক্সিয়াল প্যাটার্ন ফ্ল্যাপ (Axial pattern flap – যা সরাসরি ধমনীর মাধ্যমে রক্ত পায়) [৪, ৭]।
- সুবিধা: এটি শুধুমাত্র ক্ষত ঢেকে রাখে না, বরং আশেপাশের ত্বকের টান কমিয়ে দেয় [৪]।
- ব্যবহারের কারণ:
- বড় ক্ষত যা সেলাই করে বন্ধ করা সম্ভব নয় [১]।
- পুড়ে যাওয়া বা আঘাতজনিত (Degloving injuries) ক্ষতের ক্ষেত্রে [৫, ৭]।
- টিউমার অপারেশনের পর চামড়া প্রতিস্থাপনের জন্য [৩]।
- সাফল্য ও ঝুঁকি:
- সঠিক রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে গ্রাফ্ট বা ফ্ল্যাপ মারা যেতে পারে [২]।
- অস্ত্রোপচারের পর সফলতার জন্য স্থানটিকে নড়াচড়ামুক্ত রাখতে হয় [৭]।
- প্রক্রিয়া: নতুন ত্বক লাগানোর আগে ক্ষতস্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার (Debridement) করা প্রয়োজন [১১]।
এই পদ্ধতিগুলো পশুদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে এবং ক্ষত সংকুচিত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে [৫]।
পশু চিকিৎসায় ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড ক্লোজার (VAC)
পশু চিকিৎসায় ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড ক্লোজার (VAC), যা নেতিবাচক-চাপ ক্ষত থেরাপি (NPWT) নামেও পরিচিত, একটি কার্যকর নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি যা ক্ষতের ওপর নিয়ন্ত্রিত নেতিবাচক চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। এটি জটিল ক্ষত থেকে তরল ও টিস্যু debris পরিষ্কার করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, ফোলা কমায় এবং গ্রানুলেশন টিস্যু গঠনে সহায়তা করে [১, ৩, ৪]।
পশু চিকিৎসায় VAC-এর মূল দিকসমূহ:
- কার্যপদ্ধতি: ক্ষতটি একটি বিশেষ ওপেন-সেল ফোম ড্রেসিং দিয়ে ঢেকে একটি বায়ুরোধী সিল তৈরি করা হয় এবং একটি সাকশন পাম্পের মাধ্যমে নেতিবাচক চাপ (
50 থেকে
125 mmHg) প্রয়োগ করা হয় [৪, ৫]।
- ব্যবহার: এটি মূলত বড়, জটিল, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, পোড়া ক্ষত, এবং খোলা ফাটল (open fractures) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় [১, ২, ৬]।
- সুবিধা: সাধারণ ড্রেসিংয়ের তুলনায় এটি দ্রুত ক্ষত নিরাময় করে, সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং প্রায়শই জটিল প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয় [৪, ৬]।
- কম্প্লিকেশন: VAC ব্যবহারের সময় পশুর অস্বস্তি বা ব্যথা, রক্তপাত, এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে [৯]।
এই প্রযুক্তিটি বর্তমানে ছোট প্রাণী এবং ঘোড়ার চিকিৎসায় দ্রুত ক্ষত নিরাময় এবং টিস্যু পুনর্জন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে [৬, ৭]।
পশু চিকিৎসায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
পশু চিকিৎসায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হলো জীবাণুমুক্ত পরিবেশ, নিয়মিত টিকাদান, আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুরা রোগ, বাদলা বা তড়কার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা। কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে আঁঠিল বা পরজীবী নিয়ন্ত্রণ, জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে [১, ২, ৩, ৭, ৮]।
পশু চিকিৎসায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়সমূহ:
- টিকা প্রদান (Vaccination): গবাদিপশুকে নিয়মিত বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগের (যেমন: খুরা-রোগ, গলাফুলা, বাদলা) টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় [২, ৮]।
- আক্রান্ত পশুকে আলাদা করা: রোগাক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে দ্রুত আলাদা (Isolation) করে ফেলতে হবে এবং সুস্থ পশুকে দূরে রাখতে হবে [১, ২]।
- পরিবেশ পরিষ্কার রাখা: খামার বা পশু রাখার স্থান নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং মল-মূত্র সঠিকভাবে অপসারণ করতে হবে [৫, ৬, ৮]।
- পরজীবী নিয়ন্ত্রণ (Acaricide Application): পশুর শরীরে আঁঠিল, উকুন বা গোবর পোকা দমনে নিয়মিত ‘আকারিসাইড’ (Acaricide) বা আঁঠিলনাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে [৩]।
- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: পশু চিকিৎসকের বা খামারকর্মীর হাত ধোয়া, উপযুক্ত পোশাক (গ্লাভস, মাস্ক) ব্যবহার করা, এবং সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা জরুরি [৫]।
- খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা: পশুকে জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার পানি ও খাদ্য প্রদান করতে হবে [৬]।
- নিরাপদ বর্জ্য অপসারণ: মৃত পশুর দেহ বা ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পুঁজ-রক্ত সঠিকভাবে মাটিতে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় [৭]।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করলে খামারে মড়ক লাগতে পারে এবং চিকিৎসার খরচ বেড়ে উৎপাদন কমে যেতে পারে [২]।
পশু চিকিৎসায় আঁঠিল/আঁচিল/প্যাপিলোমাটোসিস নিয়ন্ত্রণ
পশু বা গবাদি পশুর (গরু, কুকুর, ছাগল) আঁচিল বা প্যাপিলোমাটোসিস সাধারণত ভাইরাসজনিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১-২ মাসের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে বড় বা সংক্রামক আঁচিল অপসারণের জন্য সার্জারি, ক্রায়োজেনিক পদ্ধতি (হিমায়িত করা), বা ভ্যাটেরিনারি মলম (যেমন- ওয়ার্টসঅফ) ব্যবহার করা হয়। প্রতিরোধে আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি [১, ৪, ১০]।
পশু চিকিৎসার আঁচিল নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার:
- সার্জিক্যাল অপসারণ: চিকিৎসকরা লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে বড় আঁচিল কেটে ফেলে দিতে পারেন। এতে দাগ দ্রুত কমে যায় [৩, ৪]।
- ক্রায়োথেরাপি: তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে আঁচিল জমিয়ে ফেলে দেওয়া হয় [১]।
- ওষুধ ও মলম: WARTSOFF-এর মতো ভ্যাটেরিনারি মলম আঁচিল দূর করতে এবং চামড়া নরম করতে কার্যকর। এটি দিনে দুবার আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয় [১০]।
- ইমিউনোস্টিমুলেশন: আঁচিল দূর করতে বা ছোট করার জন্য পশু চিকিৎসকরা ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করার ওষুধ (যেমন- সিমেটিডিন বা ইন্টারফেরন) ব্যবহার করতে পারেন [২, ৪]।
- হোমিওপ্যাথি: Thuja-ভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধও আঁচিল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় [৮]।
- আইভারমেকটিন (Ivermectin): পশুর ত্বকের প্যাপিলোমা বা আঁচিল চিকিৎসায় আইভারমেকটিন কার্যকর বলে গবেষণায় দেখা গেছে [১৪]।
প্রতিরোধ ও সতর্কতা:
- আলাদা রাখা: আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখুন, কারণ এটি ছোঁয়াচে [৭]।
- পরিচ্ছন্নতা: গবাদি পশুর গা মোছার সরঞ্জাম, দড়ি, এবং ট্যাগিংয়ের যন্ত্রপাতি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন [৪]।
- খাদ্য ও বাসস্থান: পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং উন্নত পুষ্টি পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় [৯]।
পশু চিকিৎসায় টিউমার অপসারণ (Tumour Removal)
পশু চিকিৎসায় টিউমার অপসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি যা প্রাণীর জীবন বাঁচাতে এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
টিউমার অপসারণের প্রধান ধাপসমূহ:
- রোগ নির্ণয় (Diagnosis): অস্ত্রোপচারের আগে পশু চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, বায়োপসি (Biopsy) বা ইমেজিং (যেমন এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ড) এর মাধ্যমে টিউমারটি ভালো (Benign) না খারাপ (Malignant/ক্যান্সার) তা নিশ্চিত করেন।
- সার্জিক্যাল অপসারণ পদ্ধতি (Surgical Removal): এটি সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া (General Anesthesia) দিয়ে করা হয়।
- ইনসিশনাল বায়োপসি: টিউমারের একটি ছোট অংশ রোগ নির্ণয়ের জন্য কাটা হয়。
- ওয়াইড মার্জিন অপসারণ: ক্যান্সারযুক্ত কোষ সম্পূর্ণ দূর করতে টিউমারের চারপাশের কিছু সুস্থ টিস্যুসহ কেটে ফেলা হয়।
- ক্রায়োসার্জারি: ছোট টিউমারগুলো অতিরিক্ত ঠান্ডা বা লিকুইড নাইট্রোজেন ব্যবহার করে জমিয়ে নষ্ট করা হয়।
- লেজার সার্জারি: অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাত কমাতে লেজার ব্যবহার করা হয়।
- অপারেশন পরবর্তী যত্ন (Aftercare):
- ১০ থেকে ১৪ দিন পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।
- ক্ষত স্থানে কামড় বা চাটা প্রতিরোধে ই-কলার (E-collar) পরানো হতে পারে।
- ব্যথা কমাতে এবং সংক্রমণ রোধে পেইনকিলার ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
খরচ ও ঝুঁকি:
- খরচ: টিউমারের ধরন, আকার এবং অবস্থানের ওপর নির্ভর করে খরচ পরিবর্তিত হয়। সাধারণ স্কিন টিউমারের ক্ষেত্রে খরচ কম হলেও অভ্যন্তরীণ টিউমার বা জটিল ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হতে পারে।
- ঝুঁকি: অ্যানেস্থেশিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, রক্তপাত, বা ক্ষত স্থানে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
আপনার পোষা প্রাণীর শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড (Lump) দেখলে দেরি না করে অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ টিউমার ছোট থাকাকালীন অপসারণ করা সহজ এবং নিরাপদ। Purdue University Veterinary Hospital এর নির্দেশিকা থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব।
পশু চিকিৎসায় টিউমার অপসারণ ওপেন সার্জারি পদ্ধতি
পশু চিকিৎসায় টিউমার অপসারণের জন্য ওপেন সার্জারি একটি প্রচলিত পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- অস্ত্রোপচার পূর্ববর্তী প্রস্তুতি (Pre-operative Prep): অস্ত্রোপচারের আগে প্রাণীর রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা করা হয় যাতে বোঝা যায় সে অ্যানেশেসিয়া (Anesthesia) সহ্য করতে পারবে কি না [১.৩.৩, ১.৪.৯]। সাধারণত অস্ত্রোপচারের ১০-১২ ঘণ্টা আগে থেকে প্রাণীকে না খেয়ে (Fasting) থাকতে বলা হয় [১.৩.৩, ১.৫.৭]।
- অ্যানেশেসিয়া ও জীবাণুমুক্তকরণ: প্রাণীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান (General Anesthesia) করা হয় [১.৩.১, ১.৪.৯]। এরপর টিউমারের চারপাশের লোম পরিষ্কার (Shaving) করে জায়গাটি অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয় [১.১.৩, ১.৪.৯]।
- টিউমার অপসারণ: সার্জন স্ক্যালপেল (Scalpel) ব্যবহার করে টিউমারের ওপর বা চারপাশে একটি গভীর কাট (Incision) দেন [১.৩.১, ১.৪.৬]। টিউমারটি সম্পূর্ণ অপসারণের জন্য প্রায়ই এর চারপাশের সুস্থ টিস্যুর কিছুটা অংশও কেটে ফেলা হয় (Surgical Margins), যাতে কোনো ক্যান্সার কোষ থেকে না যায় [১.১.১, ১.৩.২]।
- রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ ও সেলাই: অপারেশনের সময় রক্তপাত বন্ধ করতে ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীগুলো বেঁধে দেওয়া হয় (Ligation) [১.৪.৬]। টিউমার বের করার পর ক্ষতস্থানটি ভেতর ও বাইরে কয়েক স্তরে সেলাই (Sutures) করে দেওয়া হয় [১.১.১, ১.৪.৯]।
- অস্ত্রোপচার পরবর্তী যত্ন (Post-operative Care): সুস্থ হওয়ার সময় প্রাণী যেন ক্ষতস্থানে মুখ না দেয়, সেজন্য তাকে ‘ই-কলার’ (Elizabethan collar) পরিয়ে রাখা হয় [১.১.১, ১.৫.৩]। তাকে নিয়মিত ব্যথানাশক ও প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় [১.১.১, ১.৫.৫]।
টিউমারের ধরণ বুঝতে অপসারণের পর সংগৃহীত টিস্যু অনেক সময় প্যাথলজি ল্যাবে (Histopathology) পাঠানো হয় [১.৩.২, ১.৪.৩]। কোনো টিউমার দেখা দিলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের (Veterinarian) পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পশু চিকিৎসায় সিজারিয়ান সেকশন (C-section)
পশু চিকিৎসায় সিজারিয়ান সেকশন (C-section) হলো একটি জরুরি বা পরিকল্পিত অস্ত্রোপচার, যার মাধ্যমে প্রসূতি প্রাণীর (যেমন- কুকুর, বিড়াল, গরু) পেট ও জরায়ু কেটে বাছুর বা বাচ্চা বের করা হয়। সাধারণত স্বাভাবিক প্রসব বাধাগ্রস্ত হলে (Dystocia), বাচ্চার আকার বড় হলে, বা স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় [১, ৪, ৯]।
সিজারিয়ান সেকশনের মূল দিকসমূহ:
- প্রয়োজনীয়তা: যখন প্রসব বেদনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, বাচ্চার মাথা পেলভিক ক্যানেলে আটকে যায়, জরায়ু ঘুরে যায়, বা বাছুর খুব বড় হয়, তখন এই অপারেশন অপরিহার্য হয়ে পড়ে [১, ৪]।
- পরিকল্পিত vs জরুরি: কিছু নির্দিষ্ট ব্রীড (যেমন- ফ্রেঞ্চ বুলডগ, পেকিংিজ) বা পূর্বের সমস্যার কারণে আগে থেকেই সিজারিয়ান ঠিক করা হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি জরুরি পরিস্থিতিতে করা হয় [৩, ১০]।
- সার্জারি পদ্ধতি: সাধারণত জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া (অবশ করে) দিয়ে প্রাণীর পেটে ছেদ কেটে জরায়ু থেকে বাচ্চা বের করা হয় [১, ৪]।
- সাফল্য ও ঝুঁকি: কুকুর-বিড়ালের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির পর মা ও বাচ্চার বেঁচে থাকার হার খুবই উচ্চ (প্রায় ৯৯% মা) [৩, ৫]। তবে দেরি হলে বাচ্চা বা মায়ের মৃত্যুঝুঁকি থাকে [৮]।
- পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার: অপারেশনের পর মায়ের ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, ব্যথানাশক দেওয়া এবং বাচ্চাগুলো সঠিকভাবে দুধ পাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে [২]।
এই প্রক্রিয়াটি মূলত পশু চিকিৎসকের দ্বারা পরিচালিত একটি জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি।
পশু চিকিৎসায় পায়ের ক্ষতের চিকিৎসা (Foot Rot Treatment)
পশু চিকিৎসায় পায়ের ক্ষত বা পা পচা (Foot Rot) রোগের প্রধান চিকিৎসা হলো ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা এবং দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা। অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, পেনিসিলিন বা সিফিওফুর জাতীয় ইনজেকশন, ক্ষত পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক স্প্রে, এবং জিঙ্ক সালফেট বা ফরমালিন ফুটবাথ (Footbath) ব্যবহার করে সংক্রমণ কমানো ও সুস্থতা নিশ্চিত করা হয় [১, ২, ৫, ৭]।
পায়ের ক্ষতের (Foot Rot) বিস্তারিত চিকিৎসা ও প্রতিকার:
- প্রাথমিক পরিষ্কার ও চিকিৎসা: আক্রান্ত পশুর খুর ভালোভাবে পরিষ্কার করে এবং পচা অংশ ছেঁটে (trimming) ফেলতে হবে। ক্ষতে আয়োডিন বা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত করা উচিত [১, ৭]।
- অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন: ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিটেট্রাসাইক্লিন (long-acting), পেনিসিলিন বা স্টেপটোমাইসিন ইনজেকশন ৩-৫ দিন দেওয়া হয় [২, ৭]।
- ফুটবাথ (Footbath): জিঙ্ক সালফেট (
5%−10%) বা কপার সালফেট মিশ্রণে আক্রান্ত পশুকে প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা বা হাঁটানো অত্যন্ত কার্যকর [৫, ৭]।
- টপিক্যাল বা স্থানীয় চিকিৎসা: ক্ষত পরিষ্কারের পর অ্যারোসল স্প্রে (যেমন- ডার্মিকিউর, বা সেপট্রন) ব্যবহার করা যেতে পারে।
- পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা: খামারের কাদামাটি ও আর্দ্র পরিবেশ দূর করতে হবে। শুষ্ক স্থানে পশুকে রাখতে হবে, কারণ কাদা-পানিতে ব্যাকটেরিয়া বাড়ে [৫]।
- খাদ্য ও পুষ্টি: নিয়মিত জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাদ্য বা খনিজ মিশ্রণ খাওয়ালে খুরের ক্ষুর শক্ত হয় এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে [২]।
সতর্কতা: পা পচা রোগ ছোঁয়াচে, তাই আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে হবে [৪, ৯]। গুরুতর ক্ষেত্রে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পশু চিকিৎসায় Respiratory Surgery
পশু চিকিৎসায় Respiratory Surgery বা শ্বসনতন্ত্রের সার্জারি মূলত কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দূর করতে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে নাক, গলা (আপার এয়ারওয়ে), ফুসফুস এবং বুকের ভেতরের (লোয়ার এয়ারওয়ে) সমস্যা সমাধান [২, ৩]। সাধারণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীর সমস্যা, টিউমার অপসারণ, বুকের ভেতর জমে থাকা বাতাস বা তরল অপসারণের জন্য ড্রেন বসানো (Thoracic drains) [৩, ৫]।
প্রধান রেসপিরেটরি সার্জারি পদ্ধতি:
- আপার এয়ারওয়ে সার্জারি: নাক, গলবিল ও ল্যারিংসের সমস্যা সংশোধন, যা বিশেষ করে DVM360 অনুযায়ী তীব্র শ্বাসকষ্ট দূর করে [১]।
- লোয়ার এয়ারওয়ে ও বুকের সার্জারি: ফুসফুস, ডায়াফ্রাম (diaphragm) বা বুকের গহ্বরে (pleural cavity) অস্ত্রোপচার [৫]।
- থোরাসিক ড্রেন (Thoracic drains): বুকের ভেতর অস্বাভাবিক বাতাস (Pneumothorax) বা তরল (যেমন- পুঁজ বা রক্ত) অপসারণ করতে এই ড্রেন বসানো হয় [৩, ৫]।
- ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়া মেরামত: পেটের অঙ্গ বুক গহ্বরে চলে আসলে তা ঠিক করা [৫]।
- পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর সার্জারি: এভিয়ান রেসপিরেটরি সিস্টেমের জন্য আলাদা পদ্ধতি, যেমন- National Institutes of Health (NIH) | (.gov) অনুসারে এয়ার স্যাক ক্যানুলেশন (Air sac cannulation) [৪]।
এই সার্জারিগুলো সাধারণত বিশেষায়িত পশু হাসপাতালে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জনদের মাধ্যমে করা হয়, কারণ এতে উন্নত ডায়াগনস্টিক ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয় [২, ৩]।
পশু চিকিৎসায় আপার এয়ারওয়ে সার্জারি
পশু চিকিৎসায় আপার এয়ারওয়ে সার্জারি বা উর্ধ্ব শ্বাসনালী অস্ত্রোপচার হলো কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর শ্বাসকষ্ট দূর করতে নাক, গলবিল ও স্বরযন্ত্রের ব্লকেজ বা ত্রুটি দূর করার বিশেষ চিকিৎসা। এটি প্রধানত ব্র্যাকিওসেফালিক (চ্যাপ্টা মুখ) জাতের কুকুর-বিড়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করে, জীবন বাঁচায় এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা সমাধান করে।
আপার এয়ারওয়ে সার্জারির মূল দিকসমূহ:
- সাধারণ সমস্যা: চ্যাপ্টা মুখের কুকুরদের (যেমন- পাগ, বুলডগ) নাক ও গলার গঠন অস্বাভাবিকতার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
- সার্জারির প্রকার: এর মধ্যে স্টেনোটিক ন্যারিস (নাক সঙ্কীর্ণ হলে) ঠিক করা, বর্ধিত সফট প্যালেট (নরম তালু) ছোট করা, এবং ল্যারিঞ্জিয়াল স্যাকুল ইভার্সন (স্বরযন্ত্রের সমস্যা) অপসারণ করা অন্তর্ভুক্ত।
- সুবিধা: এই সার্জারির মাধ্যমে প্রাণীদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিশ্চিত করা, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দূর করা, এবং জীবনের মান উন্নত করা সম্ভব হয়।
- সতর্কতা: এই ধরনের অস্ত্রোপচার অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা করা উচিত।
এটি একটি জীবন রক্ষাকারী প্রক্রিয়া, যা অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতেও (Emergency) প্রয়োগ করা প্রয়োজন হতে পারে।
পশু চিকিৎসায় লোয়ার এয়ারওয়ে ও বুকের সার্জারি
পশু চিকিৎসায় লোয়ার এয়ারওয়ে (নিম্ন শ্বাসনালী) ও বুকের (থোরাসিক) সার্জারি হলো জটিল অস্ত্রোপচার যা ফুসফুস, শ্বাসনালী, এবং বুকের গহ্বরের রোগ বা আঘাত নিরাময়ে ব্যবহৃত হয় [৭]। এর মধ্যে ট্র্যাকিওটমি, ফুসফুসের টিউমার অপসারণ, এবং বুকের ভেতর থেকে তরল বা বাতাস বের করার মত প্রক্রিয়াগুলো অন্তর্ভুক্ত, যা বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকরা (ভেটেরিনারি সার্জন) অত্যন্ত সাবধানতার সাথে সম্পন্ন করেন [৭, ৯]।
লোয়ার এয়ারওয়ে ও বুকের সার্জারির মূল দিকসমূহ:
- সার্জারির প্রকারভেদ: এর মধ্যে ফুসফুসের লোবেক্টমি (ফুসফুসের অংশ বিশেষ অপসারণ), ডায়াফ্রামাটিক হার্নিয়া মেরামত, এবং ট্র্যাকিওটমি (শ্বাসনালীতে কৃত্রিম ছিদ্র তৈরি) অন্যতম [৭, ৯]।
- প্রয়োজনীয়তা: ফুসফুসে টিউমার, গুরুতর সংক্রমণ, বুকের গহ্বরে বাতাস (pneumothorax) বা তরল জমে যাওয়া, এবং কোনো বস্তু শ্বাসনালীতে আটকে গেলে এ ধরণের সার্জারি প্রয়োজন হয় [৭, ৯]।
- রোগ নির্ণয়: এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় করা হয় [৬]।
- অ্যানেস্থেসিয়া ও নিরাপত্তা: শল্যচিকিৎসার সময় প্রাণীর নিরাপদ অ্যানেস্থেসিয়া (অবশ করা) এবং মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ [৬]।
এই ধরনের সার্জারিগুলো সাধারণত বিশেষায়িত পশু হাসপাতালে অভিজ্ঞ শল্যচিকিৎসকদের দ্বারা করা হয়, যাতে প্রাণী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে [৭]।
পশু চিকিৎসায় ফুসফুসের লোবেক্টমি সার্জারি
পশু চিকিৎসায় ফুসফুসের লোবেক্টমি (Lung Lobectomy) হলো এমন একটি সার্জারি, যার মাধ্যমে অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত কুকুর/বিড়ালের ফুসফুসের একটি আস্ত লোব বা অংশ অপসারণ করা হয় [১, ১১]। এটি মূলত টিউমার বা ক্যানসার [১৩], গুরুতর সংক্রমণ, ট্রমা বা ফুসফুসের অংশের টিস্যু নষ্ট হয়ে গেলে করা হয়, যা পশুটির জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত কার্যকর [১১]।
- লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: ফুসফুসের টিউমার বা ক্যানসার অপসারণ, ফুসফুসের কোনো অংশের গুরুতর সংক্রমণ (যাদের ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসায় কাজ হয় না), বা গুরুতর আঘাতের ফলে ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেলে এই সার্জারি করা হয় [১১, ১৩]।
- সার্জারি পদ্ধতি: এটি একটি major বা বড় ধরনের বুকের অপারেশন। সাধারণত, পশু চিকিৎসকরা বুকের খাঁচা খুলে (thoracotomy) ক্ষতিগ্রস্ত লোবটি বিচ্ছিন্ন করে বের করে আনেন [১১]। আধুনিক পদ্ধতিতে কখনও কখনও মিনিম্যালি ইনভেসিভ (keyhole) প্রযুক্তিও ব্যবহার করা যেতে পারে [৯]।
- সুবিধা: সুস্থ ফুসফুসের টিস্যুগুলো প্রসারিত হয়ে সার্জারি করা অংশের জায়গাটি পূরণ করে, ফলে পশুটি অনেক সময় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রাখতে পারে [৪]।
- ঝুঁকি ও পুনরুদ্ধার: সার্জারি পরবর্তী জটিলতা যেমন রক্তপাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে [৪]।
পশু চিকিৎসায় ট্র্যাকিওটমি সার্জারি
পশু চিকিৎসায় ট্র্যাকিওটমি (Tracheotomy) হলো একটি জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার, যেখানে প্রাণীর ঘাড়ের সামনের অংশ দিয়ে শ্বাসনালীতে (Trachea) সরাসরি একটি ছিদ্র তৈরি করা হয়। এটি প্রধানত তখনই করা হয় যখন কোনো কারণে প্রাণীর উপরের শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না।
প্রধান কারণসমূহ (Indications)
পশু চিকিৎসকরা সাধারণত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে এই সার্জারি করার পরামর্শ দেন:
- শ্বাসনালীতে বাধা: যদি গলায় কোনো কিছু আটকে যায় বা টিউমার/ক্যান্সারের কারণে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
- গুরুতর আঘাত: দুর্ঘটনায় ঘাড় বা মুখের চোয়াল ভেঙে গেলে বা মারাত্মক ফুলে গেলে।
- ল্যারিঞ্জিয়াল প্যারালাইসিস: কণ্ঠনালীর মাংসপেশি অবশ হয়ে গেলে, যা বিশেষ করে বড় জাতের কুকুরের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
- সার্জারি পরবর্তী সতর্কতা: মুখ বা গলার বড় কোনো অপারেশনের পর শ্বাসকষ্ট এড়াতে সাময়িকভাবে এটি করা হতে পারে।
সার্জারি পদ্ধতি (Procedure)
এটি জরুরি বা পূর্বনির্ধারিত (Elective) উভয় প্রকারের হতে পারে। সাধারণ ধাপগুলো হলো:
- অবস্থান: প্রাণীকে সাধারণত চিত করে শুইয়ে ঘাড় টানটান করা হয়।
- ছেদন: ঘাড়ের মাঝ বরাবর চামড়া এবং পেশী সরিয়ে শ্বাসনালীর ২য় থেকে ৪র্থ রিংয়ের (Tracheal rings) মাঝে একটি ছিদ্র করা হয়।
- টিউব স্থাপন: ওই ছিদ্রপথে একটি ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব প্রবেশ করানো হয় এবং ব্যান্ডেজ বা সুতো দিয়ে ঘাড়ের সাথে বেঁধে রাখা হয় যাতে সরে না যায়।
সার্জারি পরবর্তী যত্ন ও ঝুঁকি
- যত্ন: টিউবটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয় যাতে মিউকাস বা কফ জমে বন্ধ না হয়ে যায়।
- ঝুঁকি: ইনফেকশন, টিউব ব্লক হয়ে দমবন্ধ হওয়া বা চামড়ার নিচে বাতাস জমা হওয়া (Subcutaneous emphysema) অন্যতম প্রধান ঝুঁকি।
পশু চিকিৎসায় থোরাসিক ড্রেন (Thoracic drains)
পশু চিকিৎসায় থোরাসিক ড্রেন (Thoracic drain) বা চেস্ট টিউব হলো একটি নমনীয় টিউব যা প্রাণীর বুকের গহ্বর (Pleural space) থেকে বাতাস বা তরল অপসারণ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক চাপ পুনরুদ্ধার করতে এবং ফুসফুসকে পূর্ণভাবে প্রসারিত হতে সাহায্য করে।
ব্যবহারের প্রধান কারণ (Indications)
- নিউমোথোরাক্স (Pneumothorax): বুকের গহ্বরে বাতাস জমে ফুসফুস সংকুচিত হওয়া।
- পাইওথোরাক্স (Pyothorax): বুকে পুঁজ জমে ইনফেকশন তৈরি হওয়া।
- কাইলোথোরাক্স (Chylothorax): লসিকা রস (Chyle) জমে যাওয়া।
- অস্ত্রোপচার পরবর্তী (Post-Surgery): থোরাকোটমি বা বুকের বড় অপারেশনের পর বাতাস বা রক্ত অপসারণের জন্য।
ড্রেন স্থাপনের স্থান ও পদ্ধতি
- সাধারণত ৭ম থেকে ৯ম ইন্টারকোস্টাল স্পেস (পাঁজরের মধ্যবর্তী স্থান) দিয়ে ড্রেনটি প্রবেশ করানো হয়।
- টিউবটি এমনভাবে স্থাপন করা হয় যেন এর অগ্রভাগ সামনের দিকে থাকে।
- এটি স্থাপনের সময় প্রাণীকে অচেতন (General Anesthesia) বা গভীর সিডেশন দেওয়া হয়।
- টিউবটি বসানোর পর পার্স-স্ট্রিং সুচার (Purse-string suture) দিয়ে ত্বকের সাথে ভালো করে আটকে দেওয়া হয় যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে।
জটিলতা (Complications)
সঠিক যত্ন না নিলে কিছু সমস্যা হতে পারে:
- বাতাস প্রবেশ (Air leak): টিউবের চারপাশ দিয়ে বাতাস ঢুকে পরিস্থিতি খারাপ হওয়া।
- সংক্রমণ (Infection): টিউব ঢোকানোর স্থানে ইনফেকশন বা সেলুলাইটিস।
- ফুসফুসে আঘাত: টিউব বসানোর সময় অসাবধানতাবশত ফুসফুসে ছিদ্র হওয়া।
- টিউব বন্ধ হওয়া: তরল জমাট বেঁধে টিউবের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
ড্রেন অপসারণের সময়
যখন দেখা যায় যে গত ১২-২৪ ঘণ্টায় আর কোনো বাতাস বের হচ্ছে না অথবা তরল নিঃসরণের পরিমাণ প্রাণীর ওজনের তুলনায় খুব সামান্য (সাধারণত ১-২ মিলি/কেজি/দিন), তখন পশুচিকিৎসক ড্রেনটি সরিয়ে ফেলেন।
আপনার পোষা প্রাণীর কি কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত জটিলতা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে যার জন্য এই চিকিৎসার কথা ভাবছেন?
পশু চিকিৎসায় ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়া (Diaphragmatic Hernia)
পশু চিকিৎসায় ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়া (Diaphragmatic Hernia) মেরামতের জন্য অবিলম্বে অস্ত্রোপচার বা সার্জারি প্রয়োজন, যেখানে ডায়াফ্রামের ছিদ্র বন্ধ করতে পেটের অঙ্গগুলো (যেমন যকৃত, পাকস্থলী) সরিয়ে সেলাই করা হয় [১, ৩, ৭]। সাধারণত ভেন্ট্রাল মিডলাইন ল্যাপারোটমি (পেটের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ) এর মাধ্যমে এই অপারেশন করা হয় এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা ফেরাতে বুকের গহ্বর থেকে অতিরিক্ত বাতাস বা তরল সরিয়ে ফেলা হয় [৩, ৪, ৮]।
ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়া মেরামতের মূল পদক্ষেপসমূহ
- প্রাক-অস্ত্রোপচার স্থিতিশীলকরণ (Pre-surgical Stabilization): সার্জারির আগে প্রাণীকে অবশ্যই স্থিতিশীল করতে হবে, যার মধ্যে ব্যথা উপশমকারী ওষুধ এবং শিরায় তরল (Intravenous fluids) প্রদান অন্তর্ভুক্ত [১, ২]। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন থেরাপি এবং প্রয়োজনে চেস্ট টিউব ব্যবহার করা হয় [২, ৩]।
- অস্ত্রোপচার পদ্ধতি (Surgical Procedure):
- অ্যানেস্থেশিয়া: সাধারণত জেনারেলে অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে পেট থেকে শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা নেওয়া হয় [৩, ৪]।
- অপ্রোচ: পশুচিকিৎসক সাধারণত পেটের মধ্যরেখা বরাবর (Ventral Midline Incision) কেটে ডায়াফ্রামের ছেঁড়া অংশটি খুঁজে বের করেন [৩, ৫]।
- অঙ্গ প্রতিস্থাপন: পেটের অঙ্গগুলো যেগুলি বক্ষ গহ্বরে (Thorax) চলে গেছে, সেগুলিকে আলতোভাবে পেটের গহ্বরে (Abdomen) ফিরিয়ে আনা হয় [৩, ৪, ১৫]।
- ডায়াফ্রাম সেলাই (Repair): ডায়াফ্রামের ছিদ্রটি স্থায়ী মোনোফিলামেন্ট সুতো (Suture) দিয়ে সেলাই করে বন্ধ করা হয় [১২]।
- চেস্ট ড্রেনেজ: হার্নিয়া বন্ধ করার আগে, বুকের গহ্বর থেকে বাতাস ও তরল বের করার জন্য একটি চেস্ট টিউব (Thoracostomy tube) স্থাপন করা হয়, যা সার্জারির পর ১২-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে [৩, ৮]।
- পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার: নিবিড় পর্যবেক্ষণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় [৪]।
অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি ও সতর্কতা
- রিসিরিক্ট পালমোনারি এডিমা: দীর্ঘস্থায়ী হার্নিয়ার ক্ষেত্রে, ফুসফুস দ্রুত প্রসারিত হলে এটি হতে পারে [৯]।
- অ্যানেস্থেশিয়ার ঝুঁকি: ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যানেস্থেশিয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন [৯, ১০]।
সফলতার হার:
প্রাথমিক চিকিৎসায় সফলতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, যদি না হার্নিয়া খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অঙ্গের গুরুতর ক্ষতি হয় [৫, ১০]।
পশু চিকিৎসায় আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া সার্জারি
পশু চিকিৎসায় আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া (Umbilical Hernia) সার্জারি বা হার্নিয়ারোপ্লাস্টি হলো পেটের নাভি বা এর আশেপাশে ছিদ্র বন্ধ করার প্রক্রিয়া, যা সাধারণত ছোট হার্নিয়ার ক্ষেত্রে ৬-১২ মাস বয়সের পর অথবা স্পে/নিউটার (বন্ধ্যাত্বকরণ) সার্জারির সাথে করা হয় [১, ২]। এই সার্জারিতে শরীরের ভেতরের টিস্যু, অন্ত্র বা চর্বি পেটের ভেতর ফিরিয়ে নিয়ে, ত্রুটিপূর্ণ জায়গাটি সেলাই বা জাল (Mesh) দিয়ে বন্ধ করা হয় [১০, ১৩]।
সার্জারি সংক্রান্ত মূল তথ্যাবলী:
- সার্জারির কারণ: হার্নিয়া বড় হলে, অন্ত্র আটকে গেলে (strangulated), বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৬-১২ মাসের মধ্যে সেরে না উঠলে সার্জারি প্রয়োজন হয় [১, ৬]।
- পদ্ধতি: হার্নিয়ার থলি বা স্যাকটি (Hernial sac) বের করে এনে ভেতরের অংশ পেটে ফেরত পাঠানো হয় এবং ফাঁকা জায়গাটি শক্ত সেলাই দিয়ে বন্ধ করা হয় [১০]।
- সময়কাল: সার্জারিটি সাধারণত ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয় [১০]।
- পরবর্তী পরিচর্যা: সার্জারির পর ১০-১৪ দিন পর্যন্ত স্থানটি শুকনো রাখতে হবে এবং হাঁটাচলা বা শারীরিক কসরত সীমিত রাখতে হবে [১, ৪]।
- জটিলতা: সঠিক যত্ন না নিলে সংক্রমণ, স্থানটি ফুলে যাওয়া, বা পুনরায় হার্নিয়া দেখা দিতে পারে [১, ৪]।
কখন জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন?
যদি হার্নিয়াটি হঠাৎ বড় হয়ে যায়, ফুলে যায়, গরম হয়ে যায় এবং পশুটি ব্যথা অনুভব করে বা বমি করে, তবে এটি আটকে যাওয়ার (Strangulated) লক্ষণ, যা একটি জরুরি অবস্থা হিসেবে অবিলম্বে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন [৫, ৬]।
পশু চিকিৎসায় ডিস্টোকিয়া (Dystocia) সার্জারি
পশু চিকিৎসায় ডিস্টোকিয়া (Dystocia) বা প্রসব জটিলতা একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে স্বাভাবিক প্রসব ব্যর্থ হলে সিজারিয়ান সেকশন (Cesarean section/C-section) বা জরায়ু সার্জারির প্রয়োজন হয় [১, ৫, ৬]। এই সার্জারি মা ও বাচ্চা উভয়ের জীবন রক্ষায়, গর্ভস্থ বাচ্চার অস্বাভাবিক অবস্থান বা প্রসবপথের বাধার ক্ষেত্রে করা হয় [১]। সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে [১, ৬]।
ডিস্টোকিয়া সার্জারির মূল দিকসমূহ:
- সার্জারির প্রয়োজনীয়তা: যখন ওষুধ (যেমন: অক্সিটোসিন) বা হাতের সাহায্যে প্রসব (Obstetric manipulation) ব্যর্থ হয়, তখন সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় [৪, ৬]।
- সিজারিয়ান সেকশন (C-Section): এটিই প্রধান সার্জারি। এতে পেটের অংশ কেটে জরায়ু থেকে বাচ্চা বের করা হয় [১, ২]।
- সার্জারি প্রক্রিয়া: অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে প্রাণীকে অচেতন করা হয়। সাধারণত পেটের নিচের দিকে (Midline) বা পাশে (Flank) ছিদ্র করে জরায়ু বের করা হয় এবং বাচ্চা ডেলিভারি করা হয় [২]।
- পরবর্তী যত্ন: বাচ্চা বের করার পর জরায়ু ভালোভাবে সেলাই করা হয় এবং এরপর পেটের পেশী ও চামড়া সেলাই করা হয় [৩, ৬]।
- ওভারিওহিস্টেরেকটমি (Ovariohysterectomy): প্রয়োজনে সিজারের সাথে জরায়ু ও ডিম্বাশয় অপসারণ (বন্ধ্যাত্বকরণ) করা যেতে পারে [৩, ১০]।
কখন সার্জারি প্রয়োজন:
- বাচ্চার আকার প্রসবপথের চেয়ে বড় হলে [২]।
- বাচ্চার অস্বাভাবিক অবস্থান (Malposition) [৫, ৭]।
- জরায়ুর পেশীর দুর্বলতা (Uterine inertia) [৫]।
- গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ প্রসব বেদনা থাকা সত্ত্বেও বাচ্চা না হওয়া [৫, ৬]।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি জরুরি সার্জারি, যা শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা করা উচিত।
পশু চিকিৎসায় গ্যাস্ট্রোটমি সার্জারি
পশু চিকিৎসায় গ্যাস্ট্রোটমি (Gastrotomy) হলো পাকস্থলীর দেয়ালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছিদ্র বা ইনসিশন তৈরি করার পদ্ধতি [১.১.১, ১.২.১]। এটি সাধারণত কুকুর এবং বিড়ালের ক্ষেত্রে একটি নিয়মিত এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অস্ত্রোপচার হিসেবে বিবেচিত [১.২.১, ১.৪.৩]।
পশু চিকিৎসায় এই সার্জারির মূল কারণ ও প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো:
কেন গ্যাস্ট্রোটমি করা হয়? (Indications)
- অপ্রয়োজনীয় বস্তু অপসারণ: পশুরা যখন খেলনা, হাড়, কাপড় বা তীক্ষ্ণ কোনো বস্তু গিলে ফেলে যা প্রাকৃতিকভাবে বা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বের করা সম্ভব হয় না, তখন এটি করা হয় [১.১.৩, ১.২.৮]।
- বায়োপসি: পাকস্থলীর দীর্ঘস্থায়ী রোগ নির্ণয়ের জন্য টিস্যুর নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় [১.১.১, ১.২.৪]।
- গ্যাস্ট্রিক ডিলেটেশন ভলভুলাস (GDV): পেট ফুলে যাওয়া বা মোচড়ানো (Bloating) সমস্যার জরুরি চিকিৎসায় পাকস্থলী থেকে বাতাস বা অতিরিক্ত খাবার বের করতে এটি প্রয়োজন হতে পারে [১.২.৩, ১.২.৮]।
- টিউমার বা আলসার: পাকস্থলীতে টিউমার বা গুরুতর আলসার থাকলে তা অপসারণে এই সার্জারি করা হয় [১.২.৭, ১.৪.৪]।
সার্জারি প্রক্রিয়া (Procedure)
১. প্রিপারেশন: পশুকে সম্পূর্ণ অচেতন (General Anesthesia) করার পর পেটের পশম পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করা হয় [১.২.৩, ১.২.৬]।
২. ইনসিশন: সাধারণত পেটের মাঝ বরাবর একটি ছিদ্র করে পাকস্থলী বের করা হয় [১.১.২, ১.২.৪]।
৩. বস্তু অপসারণ বা নমুনা সংগ্রহ: পাকস্থলীর দেয়াল কেটে ভেতর থেকে ক্ষতিকারক বস্তু বের করা হয় অথবা বায়োপসি নেওয়া হয় [১.২.৪, ১.২.৬]।
৪. সেলাই (Closure): পাকস্থলীর দেয়াল সাধারণত দুই স্তরে শোষনযোগ্য (Absorbable) সুতা দিয়ে সেলাই করা হয় যাতে কোনো লিকেজ না থাকে [১.১.১, ১.২.৪]।
সম্ভাব্য জটিলতা ও ঝুঁকি
যদিও এই সার্জারি সফলতার হার বেশি, তবুও কিছু ঝুঁকি থাকে:
- অ্যানেস্থেশিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া [১.৪.৩]।
- সেলাইয়ের স্থান থেকে সংক্রমণ (Infection) বা রক্তপাত [১.৪.১, ১.৪.৭]।
- ডেহিসেন্স (Dehiscence): সেলাই খুলে গিয়ে পাকস্থলীর তরল পেটের ভেতর ছড়িয়ে পড়া, যা থেকে পেরিটোনাইটিস হতে পারে [১.৪.১, ১.৪.৬]।
সার্জারির পর পশুকে সাধারণত ২ সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রামে রাখা এবং ক্ষতস্থান পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন [১.৪.৬]।
আপনার পোষা প্রাণীর কি অস্বাভাবিক কিছু গিলে ফেলার ইতিহাস আছে বা সে কি ঘন ঘন বমি করছে?
পশু চিকিৎসায় এন্টারোটমি সার্জারি
পশু চিকিৎসায় এন্টারোটমি (Enterotomy) হলো এমন একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যেখানে প্রাণীর ক্ষুদ্রান্ত্রে (Small Intestine) একটি ছোট ছিদ্র বা ছেদ তৈরি করা হয় [১.১.১, ১.২.৫]। সাধারণত অন্ত্রের ভেতরে কোনো সমস্যা শনাক্ত করা বা কোনো কিছু অপসারণের জন্য এই সার্জারি করা হয় [১.৩.২]।
এই সার্জারির মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
কেন এই সার্জারি করা হয়? (উদ্দেশ্য)
- বিজাতীয় বস্তু অপসারণ: যদি কোনো প্রাণী শক্ত খেলনা, সুতা বা অন্য কোনো কিছু গিলে ফেলে এবং তা অন্ত্রে আটকে যায়, তবে তা বের করার জন্য এন্টারোটমি প্রয়োজন হয় [১.৩.২, ১.৩.৭]।
- বায়োপসি (Biopsy): অন্ত্রের কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ নির্ণয়ের জন্য অন্ত্রের টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় [১.৩.৪, ১.৪.৩]।
- অবরোধ দূর করা: অন্ত্রে কোনো বাধা (Obstruction) থাকলে তা সরিয়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ও হজম প্রক্রিয়া চালু করতে এটি কার্যকর [১.২.৫, ১.৩.১]।
অস্ত্রোপচার পদ্ধতি (সংক্ষেপে)
১. পেটের অপারেশন (Laparotomy): প্রথমে প্রাণীর পেটের মাঝ বরাবর চিরে অন্ত্রের আক্রান্ত অংশটি বের করা হয় [১.৫.১]।
২. আইসোলেশন: সংক্রমণ রোধ করতে সুস্থ অংশগুলো থেকে আক্রান্ত অংশটি আলাদা রাখা হয় [১.৫.১]।
৩. ছেদ ও অপসারণ: অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর অংশে (আটকে থাকা বস্তুর ঠিক নিচে) একটি সূক্ষ্ম ছেদ দিয়ে বস্তুটি বের করা হয় [১.৫.১, ১.৫.৬]।
৪. সেলাই: বিশেষ ধরনের শোষণযোগ্য সুতা (Absorbable Suture) দিয়ে অন্ত্রের ছিদ্রটি নিখুঁতভাবে সেলাই করা হয় [১.৩.৯, ১.৫.৮]।
সতর্কতা ও ঝুঁকি
- ইনফেকশন: এটি একটি ‘ক্লিন-কন্ট্যামিনেটেড’ অপারেশন, তাই পেটের ভেতরে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে পেরিটোনাইটিস (Peritonitis) হওয়ার ঝুঁকি থাকে [১.১.৫, ১.৩.৮]।
- সেলাই খুলে যাওয়া (Dehiscence): অপারেশনের পর সেলাই করা অংশ ফেটে যাওয়া একটি জটিল সমস্যা হতে পারে [১.১.৩, ১.৫.৬]।
- পরবর্তী যত্ন: অপারেশনের পর প্রাণীকে কয়েকদিন তরল খাবার দেওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন পশু চিকিৎসকরা [১.১.১, ১.৪.৭]।
পশু চিকিৎসায় রিসেকশন সার্জারি
পশু চিকিৎসায় রিসেকশন সার্জারি বলতে সাধারণত টিউমার, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু, বা শরীরের কোনো অংশের টিস্যু কেটে বাদ দেওয়াকে বোঝায়, যা ক্যান্সার চিকিৎসা, ক্ষত মেরামত, এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গের রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ [৪, ৮]। এটি নরম টিস্যু সার্জারির (Soft Tissue Surgery) একটি বিশেষ শাখা, যা প্রায়শই অন্ত্রের বিদেশী বস্তু অপসারণ, টিউমার অপসারণ (যেমন মাস্টেক্টমি, স্প্লেনেক্টমি), এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় [৪, ৮]।
পশু চিকিৎসায় রিসেকশন সার্জারির মূল দিকসমূহ:
- প্রকারভেদ: এর মধ্যে রয়েছে নরম টিস্যু সার্জারি (যেমন: টিউমার, অন্ত্রের অংশ) এবং অর্থোপেডিক সার্জারি (যেমন: জয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ) [৩]।
- ব্যবহার: ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অনকোলজিক সার্জারি, অভ্যন্তরীণ অঙ্গের রোগ, এবং শরীরের টিস্যু মেরামতের জন্য এটি প্রয়োজন হয় [৮]।
- সুবিধা: আধুনিক পদ্ধতিতে, বিশেষ করে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি (কম কাটাছেঁড়া) এর মাধ্যমে, পশুরা দ্রুত সেরে ওঠে [৫]।
- প্রস্তুতি: সার্জারির আগে রক্ত পরীক্ষা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এবং স্থান জীবাণুমুক্ত করা নিশ্চিত করা হয় [৬]।
এই ধরনের অস্ত্রোপচার সাধারণত অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা করা উচিত, কারণ এতে সঠিক টিস্যু অপসারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন [৭]।
পশু চিকিৎসায় gastrointestinal repairs সার্জারি
পশু চিকিৎসায় গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (GI) রিপেয়ার সার্জারি হলো পাকস্থলী বা অন্ত্রের ব্লকেজ, ফরেন বডি (বিদেশী বস্তু), বা ক্ষত মেরামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নরম টিস্যু সার্জারি। এটি সাধারণত গ্যাস্ট্রোটমি (পাকস্থলী খোলা) বা এন্টারোটমি (অন্ত্র খোলা) পদ্ধতিতে করা হয়, যাতে জীবন রক্ষাকারী জটিলতা যেমন সেপসিস বা টিস্যু পচন রোধ করা যায় [১, ৫, ৯]।
মূল দিকগুলো:
- প্রয়োগ: পোষা প্রাণীর (কুকুর/বিড়াল) অন্ত্রে আটকে যাওয়া বিদেশী বস্তু, টিউমার, বা তীব্র প্রদাহের কারণে এই সার্জারি প্রয়োজন হয় [৫]।
- পদ্ধতি:
- গ্যাস্ট্রোটমি: পাকস্থলী থেকে বিদেশী বস্তু সরানোর জন্য [১]।
- এন্টারোটমি/রিসেকশন: অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলে সুস্থ অংশ জোড়া লাগানো [৫]।
- জটিলতা: অন্ত্র খোলার কারণে সেপসিস বা পেটের ভেতরে ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে [৫]।
- পুনরুদ্ধার: সার্জারির পর সঠিক যত্ন এবং সঠিক ডায়েট অনুসরণ করলে পশুপাখি সফলভাবে সুস্থ হতে পারে [৯]।
এই সার্জারিগুলো সাধারণত অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা করা হয়।
পশু চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি
পশু চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বা “কিহোল সার্জারি” একটি আধুনিক, ন্যূনতম আক্রমণাত্মক (minimally invasive) পদ্ধতি, যেখানে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অপারেশন করা হয় [৩, ৫]। এতে বড় কাটাছেঁড়া কম হয়, ব্যথা কম লাগে, দ্রুত সুস্থ হওয়া যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস পায় [১, ৪]। কুকুর-বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ, বায়োপসি ও টিউমার অপসারণে এটি খুবই কার্যকর [২, ৬]।
পশু চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির বিস্তারিত:
- পদ্ধতি: ক্যামেরার (ল্যাপারোস্কোপ) মাধ্যমে ভেটেরিনারি সার্জন পেটের ভেতরটা মনিটরে দেখে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করেন, ফলে বড় কোনো ছেদ লাগে না [২, ৩]।
- প্রধান ব্যবহারসমূহ:
- ওভারিয়েকটমি/স্পেয়িং (বন্ধ্যাকরণ): স্ত্রী পশুর ডিম্বাশয় অপসারণ [২, ৪]।
- ক্রিপ্টোরকিড সার্জারি: অণ্ডকোষ পেটের ভেতরে আটকে থাকলে তা অপসারণ [২]।
- বায়োপসি: যকৃত, পিত্তথলি বা অন্যান্য অঙ্গ থেকে টিস্যু সংগ্রহ [২, ১৫]।
- গ্যাস্ট্রোপেক্সি: পাকস্থলী পেটের দেয়ালের সাথে আটকে দেওয়া [১]।
- মূত্রথলির পাথর অপসারণ: ল্যাপারোস্কোপিক-সহায়তায় সিস্টোটমি [৩, ১৫]।
- সুবিধাসমূহ:
- কম ব্যথা ও দ্রুত সুস্থতা: ওপেন সার্জারির তুলনায় ক্ষত ছোট হওয়ায় পশুপাখি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে [৪, ৬]।
- কম রক্তপাত ও ঝুঁকি: টিস্যু ট্রমা কম হয় এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকে [৪]।
- ছোট দাগ: ক্ষতস্থানের দাগ খুবই ছোট বা প্রায় অদৃশ্য হয় [৪]।
- সার্জারি-পরবর্তী যত্ন: সাধারণত অ্যানেস্থেশিয়া থেকে পুরোপুরি জেগে ওঠার পর পোষা প্রাণী একই দিনে বাড়ি ফিরতে পারে [১]।
বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) প্রথমবারের মতো দেশীয় জাতের কুকুরের সফল ল্যাপারোস্কোপিক বন্ধ্যাকরণ করা হয়েছে, যা এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে [১১, ১৪]।
Veterinary Training Course in Dhaka Pharmacy, Dental, Nursing, Veterinary, Physiotherapy, Pathology and Homeopathy training course